Header Ads Widget

Responsive Advertisement

এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছেন শিক্ষার্থীরা, ভিডিও ভাইরাল

 এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছেন শিক্ষার্থীরা, ভিডিও ভাইরাল


কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এক শিক্ষক নিজের দায়িত্বে পাওয়া এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের কাজ করিয়েছেন দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পান আবদুল্লাহপুর হাজি আমীর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া। তবে তিনি নিজে খাতা মূল্যায়ন না করে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে খাতা মার্কিং করিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এক শিক্ষার্থী উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ করছে। এ সময় তার এক বন্ধু বলতে শোনা যায়, “বাচ্চু স্যার তোকে দিয়ে বোর্ডের খাতা মার্কিং করায়, ভালো করে দেখ।” জবাবে ওই শিক্ষার্থী বলে, “এটা একটি ছেলের লাইফ। আমি যে নম্বর দিই, তা বাচ্চু স্যারও দিত না।”

জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ধারণ করা ওই ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম ও আলী আহাম্মদ (পাখি খান) স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

এছাড়া অভিযোগপত্রের অনুলিপি শিক্ষামন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষও বিষয়টি তদন্ত করবে। আমরাও পৃথকভাবে তদন্ত করব। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”

দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল বলছেন, এসএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে এ ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে তা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক

Post a Comment

0 Comments