ডেঙ্গুর লক্ষণ এবং ধরন বদলাচ্ছে, আপনার প্রস্তুতিও বদলানো প্রয়োজন!
বাংলাদেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার পাশাপাশি বদলে যাচ্ছে রোগটির উপসর্গ ও জটিলতার ধরন। আগে যেখানে উচ্চ জ্বর, তীব্র শরীরব্যথা ও প্লাটিলেট কমে যাওয়াকে ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ হিসেবে ধরা হতো, এখন অনেক রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। কারও জ্বর খুবই মৃদু, আবার কেউ প্রায় উপসর্গহীন অবস্থাতেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে সময়মতো রোগ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং বাড়ছে জটিলতার ঝুঁকি।
সম্প্রতি ব্র্যাক হেলথকেয়ার প্রকাশিত এক সচেতনতামূলক বার্তায় বলা হয়েছে, "ডেঙ্গু বদলাচ্ছে, বদলানো উচিত আপনার ধারণাও।" চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে শুধু জ্বরের মাত্রা দেখে ডেঙ্গুর ঝুঁকি মূল্যায়ন করা নিরাপদ নয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় শুরু হয় জ্বর কমে যাওয়ার পর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ডেঙ্গুর যেসব পরিবর্তিত বৈশিষ্ট্য বেশি দেখা যাচ্ছে, সেগুলো হলো—
মৃদু জ্বর বা উপসর্গহীন সংক্রমণ: অনেক আক্রান্ত ব্যক্তির তীব্র জ্বর নাও থাকতে পারে। আবার কেউ খুব সামান্য উপসর্গ নিয়েই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন।
জ্বর কমার পর সংকটকাল: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানায়, জ্বর কমে যাওয়ার পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা ডেঙ্গুর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময় প্লাজমা লিকেজ, রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া (শক) এবং অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
সহ-সংক্রমণের ঝুঁকি: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেলে একই সময়ে অন্য ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের আশঙ্কাও বাড়তে পারে।
গুরুতর ক্ষেত্রে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি: শুধু প্লাটিলেট কমে যাওয়াই নয়, গুরুতর ডেঙ্গুতে লিভার, কিডনি, হৃদযন্ত্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
শিশু, বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের বাড়তি ঝুঁকি: ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদরোগ বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুর উপসর্গ একেবারেই মৃদু থেকে শুরু করে প্রাণঘাতী পর্যায় পর্যন্ত হতে পারে। অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো উপসর্গই অনুভব করেন না। তবে সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, উচ্চ তাপমাত্রা এবং এডিস মশার বিস্তারের কারণে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়ছে। চলতি মৌসুমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দ্রুত পরীক্ষা, সময়মতো চিকিৎসা এবং মশা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, যেকোনো ধরনের জ্বরকে অবহেলা করা উচিত নয়। জ্বর কমে গেলেও অন্তত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা, রক্তক্ষরণ, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব বা অস্থিরতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক

0 Comments