গ্র্যান্ড ফিনালে পর্বে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ট্রফির পাশাপাশি ২০ লাখ রুপি পুরস্কার পান জ্যোতির্ময়ী নায়েক।
এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন জবলপুরের তানিস্ক শুক্লা। এছাড়া ফাইনালে অংশ নেন অংশিকা চোনকার, মনরাজ বীর সিং, মাইসকম্মে বসু এবং সুহেল সুফি।
শিরোপা জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় জ্যোতির্ময়ী বলেন, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ে এসেছিলেন। প্রায় এক বছরের দীর্ঘ যাত্রা শেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
তিনি জানান, কখনোই পুরস্কারের অর্থ জেতার কথা ভাবেননি। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল নিজের সেরাটা তুলে ধরা এবং বিচারকদের প্রশংসা অর্জন করা। তাই প্রাইজমানির অর্থ কীভাবে ব্যয় করবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জ্যোতির্ময়ী বলেন, কিংবদন্তি শিল্পীদের জনপ্রিয় গান পরিবেশনের সুযোগ পাওয়া ছিল সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। অন্যদিকে এলিমিনেশনের ঝুঁকিতে নিচের সারিতে থাকা ছিল সবচেয়ে কঠিন সময়। তবে দর্শকদের ভোট, ভালোবাসা এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমই তাকে বিজয়ের মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে।
ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল জ্যোতির্ময়ীর। ইন্ডিয়ান আইডলে অংশ নেওয়ার আগে তিনি মূলত ভক্তিমূলক ও আঞ্চলিক গান গেয়ে পরিচিতি অর্জন করেন। তিনি একজন প্রশিক্ষিত কণ্ঠশিল্পী হওয়ার পাশাপাশি মিউজিক থেরাপিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন। সংগীতের মাধ্যমে মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় সহায়তা করাই ছিল তার কাজের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রথম ওড়িয়া নারী হিসেবে ইন্ডিয়ান আইডলের শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব তিনি বাবা-মায়ের প্রতি উৎসর্গ করেছেন। তার ভাষায়, পরিবার কখনোই তাকে স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা দেয়নি; বরং শুরু থেকেই পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। সেই সমর্থনই তাকে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
এবারের ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১৬’-এর বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন শ্রেয়া ঘোষাল, বিশাল দাদলানি ও বাদশাহ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন আদিত্য নারায়ণ। গ্র্যান্ড ফিনালে পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উষা উত্থুপ, উদিত নারায়ণ, পাপন, কুমার শানু, শেহনাজ গিল এবং উর্মিলা মাতন্ডকর, যা শেষ পর্বকে আরও বর্ণাঢ্য করে তোলে।
তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক
0 Comments