টানা বৃষ্টি ও বন্যায় বিপর্যস্ত বান্দরবানে নতুন করে আতঙ্কের নাম এখন বিষধর সাপ। বন্যার পানিতে ভেসে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ লোকালয়ে চলে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবনের ভেতরেও ঢুকে পড়ছে। এর মধ্যেই ত্রাণ সহায়তা পর্যাপ্তভাবে না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পানিবন্দী স্থানীয় বাসিন্দারা।
বান্দরবান সদরের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে আর্মি পাড়া এলাকায় এখনো কয়েকশ মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। টানা চার দিনের বেশি সময় ধরে ঘরবন্দী এসব মানুষের মধ্যে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে চরম দুর্ভোগ বিরাজ করছে। অনেক এলাকায় এখনো নৌকা ছাড়া চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। উঁচু ভবনগুলোতেও নিরাপদে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
পানিবন্দী এক বাসিন্দা বলেন, "চার দিন ধরে ঘরবন্দী। এখন বুঝতে পারছি না ঘরের জিনিসপত্র রক্ষা করব, নাকি নিজেদের জীবন বাঁচাব। বৃষ্টির কারণে পানি বারবার বাড়ছে, পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।"
বন্যার পানির সঙ্গে লোকালয়ে ভেসে আসা সাপ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাপই নয়, পাহাড়ি এলাকার বিচ্ছুসহ বিভিন্ন বিষাক্ত প্রাণীও বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ছে।
এক বাসিন্দা জানান, "ঘরের ভেতরে একটি সাপ ঢুকে পড়েছিল। আমি নিজেই সেটি মেরে ফেলেছি। এখন পরিবার নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছি।"
ত্রাণ বিতরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। তাদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত অনেক এলাকায় কেবল বিশুদ্ধ পানির বোতল পৌঁছেছে। পর্যাপ্ত খাদ্য, শুকনো খাবার ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা এখনো পাননি তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনমজুর, রিকশাচালক ও দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে। তাদের ভাষ্য, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি।
এদিকে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করায় পাঁচ দিন পর বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। তবে পানি পুরোপুরি না নামা পর্যন্ত পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ এবং বিষধর সাপের আতঙ্ক কাটার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক
0 Comments