Header Ads Widget

Responsive Advertisement

৪ দিন ধরে বাঘাইছড়ির সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

 

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও সড়ক ধসের কারণে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ টানা চার দিন ধরে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে আসায় উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষজন ধীরে ধীরে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় প্লাবিত গ্রামগুলো থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। এতে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

অন্যদিকে, অতিবৃষ্টির কারণে বাঘাইহাট-মারিশ্যা সড়কের ‘তিন কিলো’ এলাকায় সড়কের বড় একটি অংশ ধসে পড়ায় গত ৮ জুলাই থেকে বাঘাইছড়ির সঙ্গে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা হয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার জানান, ধসে যাওয়া অংশে ভারী যানবাহন চলাচল বর্তমানে সম্ভব নয়। জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে সড়কটি অস্থায়ীভাবে যান চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য ধসে যাওয়া অংশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণে দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করা হবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার কারণে বাঘাইছড়ি পৌরসভা, সাজেক, বঙ্গলতলীসহ বিভিন্ন এলাকার ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫৮৭টি পরিবারের মোট ২ হাজার ৩৬৬ জন আশ্রয় নিয়েছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫২০ জন আশ্রয় নিয়েছিলেন সাজেকের বাঘাইহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

বন্যার পানি কমতে শুরু করায় শনিবার সকাল থেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অনেক পরিবার নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করা হচ্ছে।

রাঙ্গামাটি প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া শনিবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় আরও ১২ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে নতুন করে কোথাও পাহাড়ধসের খবর না পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে সড়ক যোগাযোগ এখনো বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে সাময়িক সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক

Post a Comment

0 Comments