বৈরী আবহাওয়ায় হাতিয়ার সঙ্গে ৩ দিন সব ধরনের নৌ যোগাযোগ বন্ধ
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা তিন দিন ধরে নোয়াখালীর মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল মেঘনা নদীর কারণে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
গত রোববার (৫ জুলাই) সকাল থেকে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল পর্যন্ত নোয়াখালী, হাতিয়া ও সুবর্ণচরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। টানা বৃষ্টির ফলে মেঘনা নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ঢেউ ও প্রবল স্রোত।
দুর্ঘটনা এড়াতে চেয়ারম্যানঘাট-হাতিয়া নৌরুটে ফেরি, সি-ট্রাক, স্পিডবোটসহ সব ধরনের ছোট-বড় নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাটে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঘাটের দুই প্রান্তে কুরিয়ার সার্ভিস, জরুরি ওষুধ, শিশুখাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী অন্তত ১০০টির বেশি ট্রাক আটকা পড়ে আছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকায় পচনশীল খাদ্যপণ্য ও জরুরি মালামাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত যাত্রী।
জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালী জেলায় ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে উত্তাল মেঘনা নদী ও সাগরের কারণে হাতিয়ার বুড়িরচর, জাহাজমারা এবং সুবর্ণচরের নদীসংলগ্ন ঘাটগুলোতে সাগরগামী মাছ ধরার ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে অনেক ট্রলার ঘাটে নোঙর করেছে।
হাতিয়া চেয়ারম্যানঘাটের ম্যানেজার মো. শাহীন আলম জানান, প্রশাসনের নির্দেশে গত তিন দিন ধরে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। একই সঙ্গে নদী ও উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক
0 Comments