উদ্ধারের পর ধর্ষণ মামলায় শিবির নেতা জিসান গ্রেপ্তার
বিয়ের নির্ধারিত তারিখের আগের দিন আত্মগোপনে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজানোর অভিযোগে আলোচিত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মো. জিসান আহম্মেদ প্রধানকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৩ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারী।
পুলিশ জানায়, জিসান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি। তিনি ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি।
এর আগে শুক্রবার সকালে জিসানের চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহমেদ রাফি দাউদকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার রাতে দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের পর থেকে জিসানের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল।
পরে লাকসাম জংশন এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা ও পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়ার পর জিসান দাবি করেন, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং এরপর তার আর কিছু মনে নেই।
তবে তদন্তে ভিন্ন তথ্য পায় পুলিশ। ভুক্তভোগী এক বিধবা নারী শুক্রবার রাতে দাউদকান্দি থানায় ধর্ষণ ও পরিকল্পিতভাবে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এরপর ওই মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি। এতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গর্ভধারণের বিষয়টি জানার পর জিসান ভুক্তভোগীকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন। রাজি না হলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ভয় পেয়ে ওই নারী সম্মতি দিলে ওষুধের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়।
পরে ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান বিয়েতে সম্মত হন এবং ১২ জুন বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বিয়ের আগের দিন তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়ে থানায় জিডি করান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
দাউদকান্দি থানার ওসি মো. আব্দুল বারী বলেন, “ধর্ষণ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগ পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনগতভাবে দোষী বলা যাবে না।
তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক
0 Comments