ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে শিবির নেতার ‘নিখোঁজ’ নাটক, দাবি পুলিশের
নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কেন্দ্রীয় নেতা। বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণ, পরে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো এবং বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় আত্মগোপনে যাওয়ার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৩ জুন) কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
অভিযুক্ত মো. জিসান মিয়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বীরবাগ গোয়ালী এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত ১১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে পরদিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার চাচাতো ভাই। জিডির পর পুলিশ তাকে উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ মে দাউদকান্দিতে তার ভাড়া বাসায় ওই নারী ধর্ষণের শিকার হন। পরবর্তীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি জানার পর জিসান ওই নারীকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন এবং রাজি না হলে হত্যার হুমকি দেন। পরে এক বন্ধুর ওষুধের দোকান থেকে গর্ভপাতের ওষুধ এনে তাকে খাওয়ানো হয়। এতে গুরুতর রক্তক্ষরণ শুরু হলে আরও ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ের আশ্বাস দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে থানায় জিডি করান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তের একপর্যায়ে কুমিল্লার লাকসাম এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জিসানকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে জিসানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দাউদকান্দি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক
0 Comments