Header Ads Widget

Responsive Advertisement

কাগজে-কলমে ৫৯ শ্রমিক, বাস্তবে ভেকু দিয়ে চলছে খাল খনন

 কাগজে-কলমে ৫৯ শ্রমিক, বাস্তবে ভেকু দিয়ে চলছে খাল খনন


গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় ‘খাল খনন ও সংস্কার’ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে শ্রমিক ছাড়াই ভেকু (এস্কেভেটর) মেশিন দিয়ে দ্রুত খননকাজ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সারা দেশে খাল খনন, পুনঃখনন ও সংস্কারের জন্য ৪২০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় দুটি খাল সংস্কার প্রকল্প অনুমোদন পায়। এর মধ্যে পদুমশহর ইউনিয়নের দাতিয়া খাল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, দাতিয়া খাল খননকাজে দুটি ভেকু মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। কাগজে-কলমে ৫৯ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও মাঠে মাত্র কয়েকজন শ্রমিককে দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অংশ মেশিন দিয়ে খনন করা হয়েছে।

ভেকু চালক নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ভাড়ায় তারা কাজ করছেন এবং অর্থ পরিশোধ করছেন জাহিদ নামের একজন ব্যক্তি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাহিদ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিসের কর্মকর্তা নন; তিনি উপজেলা বিআরডিবি কার্যালয়ের নাইট গার্ড হিসেবে কর্মরত। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি প্রকল্পের অর্থ লেনদেন ও তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে জাহিদ বলেন, “আমি কোনো কর্মকর্তা নই। স্যার যা করতে বলেন, আমি শুধু সেটাই করি।”

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও স্থানীয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কমিটির সদস্য হয়েও তাকে না জানিয়েই কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

তবে প্রকল্পের সদস্য সচিব ও ইউপি সদস্য রোসার আলী জানান, শ্রমিকদের তালিকা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এজন্য আপাতত ভেকু দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তালিকা সম্পন্ন হলে শ্রমিকদের মাধ্যমে বাকি কাজ করানো হবে।

সাঘাটা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, “প্রাথমিকভাবে খালের তলদেশ সমান করতে মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। পরে শ্রমিকদের মাধ্যমে ফিনিশিং কাজ সম্পন্ন করা হবে।”

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল কবির জানিয়েছেন, প্রকল্পে কোনো অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক

Post a Comment

0 Comments