Header Ads Widget

Responsive Advertisement

হামজা চৌধুরীই কি বাফুফের নতুন চাল?

 

লেস্টার সিটির তারকা, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে যিনি আলো ছড়িয়েছেন, হঠাৎ করেই লাল-সবুজ জার্সি গায়ে চড়িয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন বাংলাদেশের মাঝমাঠে! আর তারপরই প্রশ্নটা উঠে গেল হামজা চৌধুরী কি হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী অধিনায়ক?

জামাল ভূঁইয়া এখনো বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক; কিন্তু বয়স, ফর্ম আর ভবিষ্যতের হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে ফুটবল মহলে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—দলের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে পরের অধ্যায়ে? আর সেই আলোচনায় সবচেয়ে জোরালো নামটা হলো হামজা চৌধুরী।

বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ইতিহাসে হামজার মতো প্রোফাইলের ফুটবলার আগে কখনো খেলেননি। প্রিমিয়ার লিগের মতো বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ লিগে বছরের পর বছর খেলার অভিজ্ঞতা তার ঝুলিতে আছে; যেখানে প্রতিটা ম্যাচ চাপের, প্রতিটা প্রতিপক্ষ বিশ্বমানের। সেই পরিবেশে টিকে থাকা মানে মানসিক দৃঢ়তা এমনিতেই তৈরি হয়ে যাওয়া। এই অভিজ্ঞতা মাঠের ভেতরে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যে আত্মবিশ্বাস দরকার, সেটার এক বিশাল ভিত্তি।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে অধিনায়কত্ব শুধু 'আর্মব্যান্ড' পরে থাকা নয়; কঠিন মুহূর্তে সতীর্থদের দিকনির্দেশনা দেওয়া, রেফারির সঙ্গে কথা বলা এবং ধৈর্য ধরে রাখা। হামজার মতো একজন ফুটবলার, যিনি ইউরোপের চাপের মুখে খেলে অভ্যস্ত, তার পক্ষে এই দায়িত্বগুলো সামলানো তুলনামূলক সহজ হবে।

মাঠে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা
বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেকের পর থেকেই হামজা যেভাবে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, তাতে স্পষ্ট বোঝা যায় তিনি বাংলাদেশের খেলাকে কন্ট্রোল করেন। রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে বল দখলে রাখা, প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানো, আবার প্রয়োজনে আক্রমণে যুক্ত হওয়া—এই সবকিছুতেই তার প্রভাব চোখে পড়ার মতো।

অসাধারণ কিছু গোল করে হামজা চৌধুরী প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু নির্ভরযোগ্যই নন, ম্যাচ উইনারও হতে পারেন। একজন অধিনায়ককে মাঠে এমন হতে হয় যার দিকে সতীর্থরা তাকিয়ে থাকে, ভরসা পায়। হামজার খেলার ধরন আগ্রাসী, নিয়ন্ত্রিত ও বুদ্ধিদীপ্ত—যা ঠিক সেই গুণাবলীই বহন করে।

তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা
বাংলাদেশ ফুটবলের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় দরকার এমন একজন মুখ, যাঁকে দেখে নতুন প্রজন্ম স্বপ্ন দেখতে শিখবে। হামজা চৌধুরী সেই প্রতীক হয়ে উঠেছেন। বিশ্বসেরা লিগে খেলা একজন ফুটবলার যখন দেশের জার্সি গায়ে চাপান, তখন সেটা হয়ে ওঠে একটা আন্দোলনের সূচনা। তাকে অধিনায়ক করা মানে এই বার্তাটাকে আরো জোরালো করা যে—বাংলাদেশ ফুটবল এখন বিশ্বমানের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।

তরুণ খেলোয়াড়রা যখন দেখবে তাদেরই সতীর্থ—যিনি একসময় প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন—তিনিই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তখন তাদের মধ্যে নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে বিশ্বাস আরো দৃঢ় হবে। পুরো একটা প্রজন্মের মানসিকতা বদলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে এই সিদ্ধান্ত।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সঙ্গে মিল
জামাল ভূঁইয়ার বয়স বিবেচনায় বাফুফে ও টিম ম্যানেজমেন্টকে খুব শীঘ্রই দীর্ঘমেয়াদী নেতৃত্বের কথা ভাবতে হবে। তপু বর্মনের মতো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার অধিনায়কত্বের আলোচনায় আছেন ঠিকই, কিন্তু হামজার বয়স, ফিটনেস লেভেল আর আন্তর্জাতিক মানের খেলার ধরন তাকে এমন একজন প্রার্থী বানায়, যিনি আগামী কয়েক বছর ধরে স্থিতিশীলভাবে দলের নেতৃত্ব দিতে পারবেন।

শুধু বর্তমানের জন্য নয়, বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব বা এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ার মাথায় রেখেও যদি পরিকল্পনা করা হয়, তাহলে হামজার মতো একজন খেলোয়াড়কে ঘিরে দল গড়ে তোলাটাই স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়ায়।

হামজা চৌধুরী বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন স্বপ্নের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। বাফুফে শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবে? নাকি জামাল ভূঁইয়াই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেবেন?

সুত্রঃ স্টার নিউজ

Post a Comment

0 Comments