গরমের দিনে এক গ্লাস বরফ-ঠান্ডা পানীয় অনেকের কাছেই স্বস্তির অনুভূতি এনে দেয়। তবে নিয়মিত অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি বা পানীয় খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে অনেকের মনে রয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠান্ডা পানি নিজে থেকে সবসময় ক্ষতিকর নয়, তবে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয়, বিশেষ করে বরফ মেশানো পানীয় বারবার খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অস্বস্তি ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখার একটি নিজস্ব ব্যবস্থা রয়েছে। তাই ঠান্ডা পানি খেলেই শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি হয়-এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে যাদের গলা সংবেদনশীল, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, দাঁতের সংবেদনশীলতা বা হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
গলার সমস্যায় অস্বস্তি বাড়াতে পারে
অনেকের ক্ষেত্রে বরফ-ঠান্ডা পানি বা পানীয় খাওয়ার পর গলা ব্যথা, খুসখুসে ভাব বা কণ্ঠস্বর পরিবর্তনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের টনসিল, অ্যালার্জি বা গলার সংবেদনশীলতা রয়েছে, তারা ঠান্ডা পানীয়তে বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন।
দাঁতের সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে
অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় দাঁতের এনামেলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। যাদের দাঁতের ক্ষয় বা সংবেদনশীলতার সমস্যা রয়েছে, তাদের ঠান্ডা কিছু খেলে দাঁতে শিরশির বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
হজমের সমস্যা হতে পারে
খুব ঠান্ডা পানীয় দ্রুত পান করলে কিছু মানুষের পেটে অস্বস্তি, পেট ব্যথা বা হজমে সমস্যা অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে ভারী খাবারের পর অতিরিক্ত বরফ-ঠান্ডা পানীয় খেলে কারও কারও অস্বস্তি তৈরি হয়।
শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্যে প্রভাব
খুব বেশি ঠান্ডা পানীয় পান করলে শরীরকে তা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনতে কিছুটা অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। যদিও সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত বড় সমস্যা তৈরি করে না, তবে অতিরিক্ত অভ্যাস ভালো নয়।
সংক্রমণের ঝুঁকি নয়, সচেতনতা জরুরি
অনেকে মনে করেন ঠান্ডা পানি খেলেই সর্দি-কাশি হয়। চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ সর্দি-কাশির মূল কারণ ভাইরাস। তবে ঠান্ডা পানীয় কিছু মানুষের গলার অস্বস্তি বা বিদ্যমান সমস্যার উপসর্গ বাড়াতে পারে।
কীভাবে নিরাপদে পান করবেন?
• খুব বেশি বরফ দেয়া পানীয় নিয়মিত পান করা এড়িয়ে চলুন।
• তৃষ্ণা মেটাতে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করা সবচেয়ে ভালো।
• ঠান্ডা পানীয় খেলে ধীরে ধীরে পান করুন।
• গলা ব্যথা বা ঠান্ডাজনিত সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় এড়িয়ে চলুন।
• শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বরফ-ঠান্ডা পানীয়ের বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
বরফ-ঠান্ডা পানি বা পানীয় একেবারে নিষিদ্ধ নয়। তবে যেকোনো জিনিসের মতো এটিও পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভ্যাস পরিবর্তন করাই সবচেয়ে ভালো।
স্বস্তির জন্য মাঝে মাঝে ঠান্ডা পানীয় খাওয়া ক্ষতিকর নাও হতে পারে, তবে নিয়মিত অতিরিক্ত বরফ-ঠান্ডা পানীয়ের অভ্যাস শরীরের কিছু সংবেদনশীল সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। সচেতনতাই হতে পারে সুস্থ থাকার সহজ উপায়।
সুত্রঃ স্টার নিউজ
0 Comments