Header Ads Widget

Responsive Advertisement

টাকা দিয়ে হলেও সংঘাত এড়াতে চাইছেন সৌদি যুবরাজ!

 


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর থেকে রিয়াদ সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে চলার নীতি অনুসরণ করলেও সাম্প্রতিক একাধিক ড্রোন হামলার পর অবস্থান বদলাতে শুরু করেছে দেশটি। অভিযোগ, ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের হামলার জবাবে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরাকে অভিযান চালিয়েছে সৌদি আরব।

বিশ্লেষকদের মতে, এখন সৌদি আরবের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। একদিকে হামলার জবাবে সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা, অন্যদিকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা।

বর্তমান সংঘাতে একদিকে রয়েছে ইরান ও তাদের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তাদের মিত্র হিসেবে রয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী, ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ। অভিযোগ রয়েছে, ইরান-সমর্থিত এসব গোষ্ঠী উপসাগরীয় অঞ্চলে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট। এ জোটে বিভিন্ন মাত্রায় উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্র ও জর্ডান যুক্ত রয়েছে। ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও বর্তমান সংঘাতে সরাসরি সক্রিয় ভূমিকা রাখছে না।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইন। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলার অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে যেসব জাহাজ ইরানের নির্ধারিত রুট অনুসরণ করছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকের মিলিশিয়া গোষ্ঠী ও ইয়েমেনের হুতিদের ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো স্থায়ী সমঝোতা না হলে এই সংকট পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।

এদিকে সৌদি আরব পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহী। এর অন্যতম কারণ দেশটির যুবরাজ ও কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী ভিশন ২০৩০ কর্মসূচি।

এই কর্মসূচির লক্ষ্য তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করা, আধুনিক শিল্প খাত গড়ে তোলা এবং প্রতিবছর শ্রমবাজারে প্রবেশ করা বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণীর জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সংস্কার, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে রিয়াদ একদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে বৃহৎ আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া থেকেও বিরত থাকার কৌশল অনুসরণ করছে।

তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক

Post a Comment

0 Comments