Header Ads Widget

Responsive Advertisement

হরমুজ প্রণালিতে টানা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা জবাব ইরানের

 


হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালানোর দাবি করেছে। অন্যদিকে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি জাহাজে হামলা এবং একটি মার্কিন নির্মিত ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছে। তবে এসব দাবির অনেকগুলোর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ড সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে সর্বশেষ অভিযান শুরু হয়। তাদের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক মানুষ ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সম্ভাব্য হামলার সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সোমবার রাতজুড়ে দেশটির দক্ষিণ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বন্দর আব্বাস, কিশ ও কেশম দ্বীপ এবং বুশেহর প্রদেশের জাম শহরে হামলার খবর পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।

ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে জানানো হয়, বন্দর আব্বাসের পশ্চিমাঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে তাসনিম নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনকারী কয়েকটি জাহাজে ইরানি বাহিনী হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে বন্দর আব্বাসের কাছে একটি মার্কিন নির্মিত ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, ওমান উপসাগর সংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য তখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এছাড়া ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক, নজরদারি টাওয়ার ও যোগাযোগ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এ অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও নিরপেক্ষ যাচাইয়ের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক

Post a Comment

0 Comments