জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন বিষয়ে শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৩ আগস্ট নির্ধারণ করেছেন আদালত।
রোববার (২৬ জুলাই) শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম এ আদেশ দেন।
শুনানিতে কারাগার থেকে জুনায়েদ আহমেদ পলককে আদালতে হাজির করা হয়। এজলাসে তিনি আদালতের কাছে আইনজীবীদের সঙ্গে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে কথা বলার সুযোগ চান।
পলক বলেন, ঘাড়ে আঘাতের কারণে চিকিৎসক তাকে হেলমেট না পরার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৯৮টি মামলা রয়েছে এবং তিনি ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলেন। প্রতিটি মামলার বিচার চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবারের সঙ্গে মাত্র আধা ঘণ্টা সাক্ষাতের সুযোগ পান। তাই আইনজীবীদের সঙ্গে মামলা সংক্রান্ত আলোচনার জন্য প্রতি দুই সপ্তাহে দুই দিন, প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে বিশেষ সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানান। পরে আদালত কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী জানান, মামলার গ্রেপ্তার আসামি ফোরকান আদালতে উপস্থিত না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ চার্জ গঠন শুনানি পেছানোর আবেদন করে। একই সঙ্গে আসামিপক্ষও সময়ের আবেদন জানালে আদালত আগামী ১৩ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
তিনি আরও জানান, মামলার ৩৪ জন আসামির মধ্যে এদিন কারাগার থেকে চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়। এছাড়া জামিনে থাকা আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। সেদিন তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘটনার পর ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহতের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী।
বর্তমানে আসামিদের মধ্যে জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাদেক খান, ফোরকান হোসেন ও শাহজাহান খান কারাগারে আটক রয়েছেন।
তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক
0 Comments