Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ফিফা কি ক্ষমতার কাছে বিকিয়ে গেল

 ফিফা কি ক্ষমতার কাছে বিকিয়ে গেল


২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে ঘিরেও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভিসা জটিলতা, শাস্তি প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে সংস্থাটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষক ও ফুটবল সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বকাপ চলাকালে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল ইরান জাতীয় দলের কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে জটিলতা। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলেও ইরান দলের ১৪ জন কর্মকর্তা ও ব্যাকরুম স্টাফ ভিসা পাননি। তালিকায় ছিলেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের মহাসচিব হেদায়াত মমবেইনি ও সহসভাপতি মেহেদি মোহাম্মদ নবীও।

এছাড়া সোমালিয়ার আন্তর্জাতিক রেফারি ওমর আর্তানকে বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। একইভাবে ইরাকের ফরোয়ার্ড আইমেন হুসেইনকে বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা এবং ঘানার মিডফিল্ডার থমাস পার্তের কানাডায় প্রবেশে বাধার ঘটনাও সমালোচনার জন্ম দেয়।

সমালোচকদের মতে, অংশগ্রহণকারী সব দল ও সংশ্লিষ্টদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা ফিফার দায়িত্ব হলেও এসব ঘটনায় সংস্থার দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল না।

বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে বিতর্ক

বিতর্ক আরও তীব্র হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে ঘিরে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়লেও বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে সেই শাস্তি প্রত্যাহার করে ফিফা।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। যদিও এ বিষয়ে ফিফার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা স্পষ্ট নয়, তবে বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন সিদ্ধান্তটিকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ফিফার নিজস্ব শৃঙ্খলা বিধির সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

ইনফান্তিনোকে ঘিরেও সমালোচনা

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকেও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সম্মাননা দেওয়ার পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একদল সদস্য ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে তার আচরণের তদন্তের দাবি জানান।

সমালোচকদের ভাষ্য, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় প্রতিযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

পুরোনো সংকট, নতুন প্রশ্ন

২০১৫ সালের দুর্নীতি কেলেঙ্কারির পর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। তবে এক দশক পর নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—আর্থিক অনিয়মের জায়গায় এখন কি রাজনৈতিক প্রভাব ও দ্বৈত নীতির অভিযোগই ফিফার সবচেয়ে বড় সংকটে পরিণত হয়েছে?

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রতি আস্থা ধরে রাখতে ফিফাকে সব দেশের জন্য সমান নীতি প্রয়োগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক

Post a Comment

0 Comments