Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ইষ্ট বেকার প্রত্যাহারের নির্দেশ, মোড়ক বদলে চলছে প্রকাশ্যে বিক্রি!

 


বাজার থেকে প্রত্যাহার ও উৎপাদন-বিপণন বন্ধের নির্দেশ থাকলেও রাজধানীর বিভিন্ন দোকানে এখনো প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ খাদ্যপণ্য। অভিযোগ উঠেছে, একই পণ্য নাম ও মোড়ক পরিবর্তন করে নতুনভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক ও সংরক্ষণকারীযুক্ত এসব খাবার দীর্ঘদিন খেলে ক্যান্সার, কিডনি বিকলসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) অতিমাত্রায় প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের অভিযোগে ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডের ‘ইস্ট কেক’, জিবাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ‘ইস্ট বেকার ব্রেড’ এবং আরবোটিং ফুড লিমিটেডের ‘আরবোটিং ফুড ব্রেড’ বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। তবে রাজধানীর বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, এসব পণ্য এখনো বিক্রি হচ্ছে।

অনেক দোকানদার জানান, নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তারা অবগত নন। তাদের ভাষ্য, কোম্পানি নিয়মিত পণ্য সরবরাহ করায় তারা তা বিক্রি করে যাচ্ছেন।

দোকানিরা বলেন, প্রতি সপ্তাহেই এসব পণ্য আসে। কোনো সমস্যা থাকলে কোম্পানি পণ্য সরবরাহ করত না। রুটি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে কোনো না কোনো সংরক্ষণকারী ব্যবহার করা হয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, ক্রেতাদের অনেকেই জানান, স্বাদ ভালো হওয়ায় শিশু ও বড়রা নিয়মিত এসব রুটি খেতেন। তবে গণমাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকির খবর প্রকাশের পর অনেকেই তা কেনা বন্ধ করেছেন।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞার পর ‘ইস্ট’ নাম বাদ দিয়ে নতুন মোড়কে একই পণ্য বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন মোড়কে ‘ওয়াংতা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য ব্যবহার করা হলেও ঠিকানা আগের নিষিদ্ধ পণ্যের প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ আকর্ষণীয় মোড়ক দেখে পণ্য কিনলেও এর ভেতরে কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে অধিকাংশই অজ্ঞাত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, খাবারকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ ও আকর্ষণীয় করতে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ এবং ক্ষতিকর রং ব্যবহার করা হলে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এসব রাসায়নিক দীর্ঘদিন শরীরে জমতে থাকলে লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে দেশে কঠোর আইন থাকলেও বাস্তবে আইন প্রয়োগ দুর্বল হওয়ায় নিষিদ্ধ পণ্যও সহজেই বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তারা নিয়মিত তদারকি ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক

Post a Comment

0 Comments