মেসির চোখে জল
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস, রেকর্ড এবং আবেগের অনন্য এক মিশেল উপহার দিলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর উদ্যাপনের মুহূর্তে টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে তার চোখের জল। মুহূর্তেই সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
হয়তো এটি তার শেষ বিশ্বকাপ অভিযানের শুরু, হয়তো আরেকটি স্বপ্ন পূরণের পথে প্রথম পদক্ষেপ। সেই অনুভূতির প্রতিফলনই যেন দেখা গেল আর্জেন্টাইন অধিনায়কের চোখে। আর সেই আবেগঘন দৃশ্য নতুন করে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বের কোটি কোটি আর্জেন্টিনা সমর্থকের মাঝে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। দলের তিনটি গোলই করেছেন লিওনেল মেসি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেছেন তিনি।
ম্যাচের ১৭তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোলের সূচনা করেন মেসি। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান বলটি স্পর্শ করলেও শেষ পর্যন্ত তা জালে জড়িয়ে যায়। গোলের পরই আবেগে ভেঙে পড়তে দেখা যায় আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে।
জাতীয় দলের হয়ে নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নামা মেসি দ্বিতীয় গোলটি করেন ৬০তম মিনিটে। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট থেকে ফিরে আসা বল সহজেই জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। এরপর ৭৬তম মিনিটে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে পূর্ণ করেন নিজের স্মরণীয় হ্যাটট্রিক।
এই তিন গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬। এর ফলে কিলিয়ান এমবাপ্পে, গার্ড মুলার ও রোনালদো নাজারিওকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের তালিকায় আরও ওপরে উঠে যান তিনি। একই সঙ্গে ১৬ গোল নিয়ে স্পর্শ করেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আরও একটি অনন্য কীর্তি গড়েন মেসি। ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করে তিনি আসরটির ইতিহাসে সবচেয়ে বয়সী হ্যাটট্রিককারী ফুটবলার হয়ে যান। এতদিন এই রেকর্ড ছিল পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দখলে। ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ৩৩ বছর ১৩০ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি।
এছাড়া পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার বিরল কীর্তিতেও রোনালদোর পাশে নাম লেখান মেসি। তিনি গোল করেছেন ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে। শুধু ২০১০ বিশ্বকাপেই গোলের দেখা পাননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়সী গোলদাতাদের তালিকায়ও তিন নম্বরে উঠে এসেছেন তিনি। তার সামনে রয়েছেন শুধু ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলা এবং পর্তুগালের ডিফেন্ডার পেপে।
তবে দিনের শেষে পরিসংখ্যান কিংবা রেকর্ডের চেয়েও বেশি আলোচনায় ছিল একটি দৃশ্য—গোলের পর মেসির চোখে জমে ওঠা অশ্রু। সেই কয়েক ফোঁটা জল যেন বলে দিল দীর্ঘ দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, অসংখ্য অর্জন, ব্যর্থতা, সাফল্য এবং আরেকটি বিশ্বকাপ স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষার গল্প।
তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক
0 Comments