প্রেম কিংবা সংসার বাঁচাতে গিয়ে পুড়ছে হাত, কাঁটা পড়ছে আঙুল!
জ্বীনের মাধ্যমে অলৌকিক সমাধান, বশীকরণ কিংবা জীবনের নানা সমস্যার সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে একটি চক্র। তাদের দেওয়া রাসায়নিক পদার্থ হাতে রেখে অনেকেই গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। কারও কারও হাতের আঙুল পর্যন্ত কেটে ফেলতে হচ্ছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে একই ধরনের পোড়া হাত নিয়ে এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
রাজধানীর শ্যামলীর এক তরুণী চাকরির পরীক্ষায় সফল হওয়ার আশায় এমন প্রতারণার শিকার হন। তিনি জানান, অলৌকিক সমাধানের কথা বলে তার হাতে একটি পদার্থ দেওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হলেও ভয় দেখিয়ে তাকে হাত থেকে পদার্থটি সরাতে নিষেধ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনলাইন ও অফলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে এই প্রতারক চক্র মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও প্রেমসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেয়। পরে তাদের দিয়ে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ও চিনি মিশিয়ে হাতে রাখতে বলা হয়। কখনও এর সঙ্গে পানি মেশানোর নির্দেশও দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ও চিনির রাসায়নিক বিক্রিয়ায় প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হয়, যা হাতে মারাত্মক দগ্ধ ক্ষতের সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতি শুধু ত্বকে সীমাবদ্ধ থাকে না; স্নায়ু, রক্তনালী ও মাংসপেশিও আক্রান্ত হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, “প্রতারকরা রোগীদের বলে ব্যথা অনুভব করা মানেই জ্বীন কাজ করছে। ফলে ভুক্তভোগীরা কষ্ট সহ্য করে পদার্থটি দীর্ঘ সময় ধরে রাখেন। এতে গভীর দগ্ধ ক্ষত তৈরি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে।”
ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রথমে বিকাশ বা অন্য মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়। পরে হাত পুড়ে গেলে বলা হয়, জ্বীন অসন্তুষ্ট হয়েছে এবং তাকে সন্তুষ্ট করতে আরও অর্থ ব্যয় করতে হবে। এভাবে প্রতারকরা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানান, এমন প্রতারণার শিকার হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা অধিকাংশ রোগী ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে আসছেন। তারা সাধারণ মানুষকে এসব অলৌকিক সমাধানের প্রলোভনে না পড়ার এবং এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক
0 Comments