নারীদের মতো পুরুষেরও কি মুড সুইং হয়
শুধু নারীরাই নয়, পুরুষরাও মুড সুইংয়ের শিকার হতে পারেন। কখনও হঠাৎ অকারণে বিরক্ত লাগা, মন খারাপ হওয়া বা কিছু সময় পর আবার স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া— এমন অভিজ্ঞতা পুরুষদের জীবনেও খুবই সাধারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, ঘুমের ঘাটতি এবং জীবনযাপনের বিভিন্ন অভ্যাস পুরুষদের আবেগ ও মানসিক অবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের শরীরেও হরমোনের ওঠানামা ঘটে। বিশেষ করে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে বা পরিবর্তিত হলে বিরক্তি, উদ্বেগ, অস্থিরতা, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি এবং মন খারাপের মতো অনুভূতি দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমোন শুধু শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে নয়, আবেগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
এছাড়া কর্মক্ষেত্রের চাপ, আর্থিক দায়িত্ব, পারিবারিক সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন চাপের মধ্যে থাকলে শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা মুড সুইংয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবও মেজাজের পরিবর্তনের বড় কারণ। নিয়মিত কম ঘুম হলে মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যায়। ফলে সামান্য বিষয়েও রাগ, হতাশা বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে।
মনোবিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, অনেক পুরুষ সামাজিক কারণে নিজেদের আবেগ প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। দুঃখ, ভয়, হতাশা বা উদ্বেগ দীর্ঘদিন নিজের মধ্যে চেপে রাখলে তা একসময় আচরণগত পরিবর্তন, রাগ বা অতিরিক্ত বিরক্তির মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে।
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়ামের অভাবও মুড সুইংয়ের ঝুঁকি বাড়ায়। রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করলে ক্লান্তি, মনোযোগের সমস্যা ও খিটখিটে মেজাজ দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িক মুড পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও যদি তা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক বা দৈনন্দিন কাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মুড ভালো রাখতে প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামও উপকারী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মুড সুইংকে দুর্বলতা নয়, বরং শরীর ও মনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা উচিত। নিজের আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নেওয়াই সুস্থ মানসিক জীবনের অন্যতম চাবিকাঠি।
তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক
0 Comments