Header Ads Widget

Responsive Advertisement

মেসি বনাম ভিনিসিয়ুস রেফারির দুই সিদ্ধান্তে বিতর্ক কেন?

 মেসি বনাম ভিনিসিয়ুস রেফারির দুই সিদ্ধান্তে বিতর্ক কেন?


ম্যাচের ২২তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বল জালে জড়িয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছিলেন। তবে পরবর্তীতে ভিএআর-এর সহায়তায় গোলটি বাতিল করে ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন মেক্সিকান রেফারি সেসার আর্তুরো রামোস।

ঘটনার সূত্রপাত স্কটল্যান্ডের ডি-বক্সের ভেতর। স্কটিশ ডিফেন্ডার জ্যাক হেনড্রির পায়ে বল ছিল এবং তিনি সেটি নিয়ে সামনের দিকে এগোতে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র পেছন থেকে ক্ষিপ্র গতিতে এসে বলের দখল নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বলের লাইনে পা রাখার চেষ্টা করেন। স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার যখন বলটি কিক করতে যান, তখন তা ভিনিসিয়ুসের পায়ে লাগে। হালকা এই ট্যাকলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান হেনড্রিএবং ভিনিসিয়ুস বল লুফে নিয়ে গোল করেন।

ম্যাচ চলাকালীন লাইভ সম্প্রচারে বিবিসির একজন ফুটবল কনসালট্যান্ট এই সিদ্ধান্তের একটি ভিন্ন বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছেন। তার মতে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র মূলত বলের পজিশন নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন এবং তিনি প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে পেছন থেকে কোনো সরাসরি ট্যাকল করেননি। বরং স্কটিশ ডিফেন্ডারের পাই-ই পেছন থেকে এসে ভিনির পায়ে লেগেছিল।

ভিএআর রেফারিরা সাধারণত একাধিক ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল থেকে নিখুঁতভাবে ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করেন। বিবিসির ওই বিশ্লেষকের দাবি, মেক্সিকান রেফারি হয়তো নির্দিষ্ট কোনো একটি ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল খেয়াল করেননি বা এড়িয়ে গেছেন, যার কারণে তিনি এটিকে ফাউল হিসেবে গণ্য করেছেন। তবে ফুটবল মাঠে দিনশেষে রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং সেই অনুযায়ী গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

মেসি ও ভিনিসিয়ুসের ফাউল বিতর্ক: অমিল যেখানে

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক সমর্থক ভিনিসিয়ুসের এই ফাউলটিকে প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসির একটি ট্যাকলের সাথে মেলাচ্ছেন, যা বিশ্লেষকদের মতে সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।

অনেকে দাবি করছেন মেসির সেই ট্যাকলটিতে ফাউল দেওয়া হয়নি, যা সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, মেসির সেই ট্যাকলটিকেও রেফারি ফাউল হিসেবেই ঘোষণা করেছিলেন। তবে সেটি হলুদ বা লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ছিল কি না তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। ভিনিসিয়ুসের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি ছিল শতভাগ রেফারির বিচক্ষণতার ওপর (ফিফটি-ফিফটি চান্স)। রেফারি নিজে অন-ফিল্ড মনিটরে ভিএআর দেখে ফাউলের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফিফা বরাবর কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা মেইল পাঠাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত দলটির পক্ষ থেকে কোনো আপিল করার খবর পাওয়া যায়নি।

ছন্দে ব্রাজিল, গোল্ডেন বুটের রেসে ভিনিসিয়ুসবিতর্ক ছাপিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো দলের চেনা ছন্দে ফেরা। নেইমার জুনিয়রের জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতভাবেই দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই ম্যাচে জোড়া গোল করার মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪-এ। এর ফলে তিনি লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হালান্ডের সাথে গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে বেশ ভালোভাবেই টিকে রইলেন। সব মিলিয়ে, বিতর্ক থাকলেও এই দুর্দান্ত জয়টি ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য পূর্ণ উদযাপনের এক উপলক্ষ্য এনে দিয়েছে।

সুত্রঃ স্টার নিউজ

Post a Comment

0 Comments