পরিসংখ্যানের হিসাবে দেশের মূল্যস্ফীতি কমলেও নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরছে না। বরং বছরের ব্যবধানে প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। খরচ কমাতে পরিবারের খাবারের তালিকা থেকে বাদ পড়ছে মাছ, মাংস, ডিম ও দুধের মতো পুষ্টিকর খাবার।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, জুলাই মাসে দেশে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছে। জুনে এই হার ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমেছে।
তবে পরিসংখ্যানের এই নিম্নমুখী চিত্রের সঙ্গে বাজারের বাস্তবতার মিল খুঁজে পাচ্ছেন না ভোক্তারা। চাল, ডাল, পেঁয়াজ ও কয়েক ধরনের মসলা ছাড়া বছরের ব্যবধানে বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।
রাজধানীর মিরপুরের আলুব্দী বাজারে বাজার করতে আসা মো. এনামুল হক জানান, অনেক কাটছাঁট করেও বাজারের হিসাব মেলাতে পারছেন না। বেশি দামের কারণে গুঁড়া দুধ, তরল দুধ, গরুর মাংস, মাছ ও তুলনামূলক দামি সবজি কেনা বন্ধ করেছেন। কমিয়েছেন পেঁয়াজ, চিনি, মসলা, আটা, মুরগি ও ডিমের পরিমাণও।
অন্যদিকে কদমতলীর অটোরিকশাচালক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আয় দিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাছ-মাংসের মতো খাবার তো অনেকটাই নাগালের বাইরে চলে গেছে।
বাজারে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করছে ভোজ্যতেলের দাম। এক বছরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৮৮ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৯ টাকা হয়েছে। খোলা সয়াবিন ১৬৫ থেকে বেড়ে ১৯২ টাকা এবং পাম তেল ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে। একই সময়ে মাছ, মাংস, ডিম ও দুধের দামও বেড়েছে। সম্প্রতি আটা ও চিনির দামও কেজিতে প্রায় ৫ টাকা করে বেড়েছে।
টিসিবির তথ্যেও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার চিত্র উঠে এসেছে। এক বছরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ, খোলা সয়াবিন ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং পাম তেলের দাম ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে।
সিপিডির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ শতাংশের বেশি পরিবার তাদের আয়ের অন্তত অর্ধেক খাবারের পেছনে ব্যয় করে। খাদ্যের দাম বাড়ায় নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য মৌলিক খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতি কমার পরও বাজারে স্বস্তি না ফেরার পেছনে সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও বাজার তদারকির ঘাটতি রয়েছে। পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ স্বাভাবিক করা, মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা কমানো, আমদানিনির্ভর পণ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বন্ধ করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও কমিয়ে ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে আনতে না পারলে সাধারণ মানুষের ওপর বাজারের চাপ কমবে না। ফলে কাগজে-কলমে মূল্যস্ফীতি কমলেও বাস্তবে মানুষের বাজারের তালিকা আরও ছোট এবং খরচের হিসাব আরও বড় হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক
0 Comments