ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১৫টি পাইপ বোমা, গানপাউডার, সায়ানাইডসহ বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট। এ ঘটনায় জেএমবির সক্রিয় সদস্য আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার আরিফ কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী এলাকার হানিফের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিটিটিসি সূত্র জানায়, অভিযানের সময় আরিফের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকে বিশেষ কৌশলে লুকানো ছয়টি পাইপ বোমা ও বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল উদ্ধার করা হয়। পরে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আরও নয়টি পাইপ বোমা, গানপাউডার, সায়ানাইড ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে ১৫টি পাইপ বোমা নিষ্ক্রিয় করে বোম ডিসপোজাল ইউনিট।
স্থানীয় সূত্র ও বাড়ির মালিকের পরিবারের সদস্যরা জানান, ড্রাইভার ও শিক্ষক পরিচয়ে পরিবার নিয়ে থাকার কথা বলে আরিফ বাড়িটির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। বাড়ির মালিকের মেয়ে ইলমা জানান, গত ২ আগস্ট আব্বাস আলী নামের একজনসহ দুজন বাসা ভাড়া নিতে আসেন। ৩ আগস্ট রাত থেকে তারা সেখানে থাকা শুরু করেন। তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে থাকার কথা জানিয়ে পাশের একটি স্কুলে শিশুদের পড়ানোর কথা বলেছিলেন। তাদের একজন গাড়ি চালান বলেও জানিয়েছিলেন।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, পুরো এলাকা ঘিরে বোম ডিসপোজাল ইউনিট অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার আরিফের কাছ থেকে জেএমবির দাওয়াতি ও সাংগঠনিক লিফলেটও উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন জানান, রাজধানীর মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে আরিফ ও বোমারু মামুন নামে দুজনকে শনাক্ত করা হয়। মামুনকে মূলহোতা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামপুরের ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয় বলে জানান তিনি। অভিযানে আরিফকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল ও বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। বোমারু মামুনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে।
সিটিটিসি সূত্র জানায়, গত ৩১ জুলাই সাভারের আশুলিয়ার একটি মুদিদোকানে ফেলে যাওয়া ভ্রমণব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।
এর আগে ২৪ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকেও একটি বোমা উদ্ধার করেছিল সিটিটিসি। এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বোমাটির উৎস এবং এর সঙ্গে কোনো উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক
0 Comments