Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ট্রাম্পের ‘ডান হাত’ কে এই নাটালি হার্প


 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া ব্যক্তিদের একজন নাটালি হার্প। ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালের পোস্ট টাইপ করা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি তার কাছে পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্টের দেশ-বিদেশের সফরেও নিয়মিত দেখা যায় তাকে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে হার্পের উপস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও দৃশ্যমান হয়েছে। প্রেসিডেন্টের কয়েক ফুট দূরে ওভাল অফিসে কিংবা এয়ারফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের সঙ্গে তাকে প্রায়ই দেখা যায়।

যেভাবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হলেন হার্প

৩৫ বছর বয়সী হার্প ক্যালিফোর্নিয়ার একটি রক্ষণশীল খ্রিষ্টান পরিবারে বেড়ে ওঠেন। হাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার শুরু।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পাস হওয়া ‘রাইট টু ট্রাই’ আইনের আওতায় পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পান হার্প। ২০২০ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি ট্রাম্পকে তার জীবন রক্ষার কৃতিত্ব দেন। এরপর ট্রাম্প প্রকাশ্যেই তার প্রশংসা করেন।

ধীরে ধীরে হার্প ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা ম্যাগা আন্দোলনের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের উপদেষ্টা বোর্ডেও যুক্ত হন তিনি।

পরাজয়ের পরও ছাড়েননি ট্রাম্পকে

২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প পরাজিত হওয়ার পর হার্প রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কে (ওএএন) উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। সেখানে তিনি ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিতি পান।

২০২২ সালে ওএএন ছেড়ে আবার ট্রাম্পের রাজনৈতিক শিবিরে ফিরে আসেন হার্প। এরপর ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

কেন তাকে ‘গেটকিপার’ বলা হয়?

হোয়াইট হাউসে হার্পের আনুষ্ঠানিক পদ ‘এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট টু দ্য প্রেসিডেন্ট’। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাস্তব ভূমিকা এর চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।

ট্রাম্প সংবাদ, নিবন্ধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের কাগজের কপি পড়তে পছন্দ করেন। তাই একটি বহনযোগ্য প্রিন্টার নিয়ে ট্রাম্পের পাশে প্রায়ই দেখা যায় হার্পকে। এ কারণে হোয়াইট হাউসের ভেতরের লোকজন ও সাংবাদিকদের কেউ কেউ তাকে ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ বলে ডাকেন।

বিবিসির কাছে একটি সূত্র দাবি করেছে, ট্রাম্পের কাছে কোন তথ্য বা আপডেট পৌঁছাবে, সে ক্ষেত্রে হার্পের ‘অস্বাভাবিক প্রভাব’ রয়েছে। এ কারণেই তাকে ‘গেটকিপার’ হিসেবেও দেখা হয়।

ট্রাম্পের পোস্টও টাইপ করেন

ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট টাইপ করার দায়িত্বও পালন করেন হার্প। ২০২৪ সালে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের একটি বক্তব্য দেখার সময় ট্রাম্পের পাশে বসে তার হয়ে পোস্ট টাইপ করতে দেখা যায় তাকে। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ট্রাম্পের সফরেও ছায়াসঙ্গী

হার্পের প্রভাবের সবচেয়ে দৃশ্যমান দিকগুলোর একটি হলো প্রেসিডেন্টের সফরে তার উপস্থিতি। সম্প্রতি তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের গোপন বিমানযাত্রার সময়ও তিনি সঙ্গে ছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফও ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের ভ্রমণের প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা করেছেন। তিনি কাতারের আমিরের উপহার দেওয়া ‘উড়ন্ত প্রাসাদে’ ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের ভ্রমণের কথা উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের কাছে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে হার্পের ভূমিকা নিয়ে লিখেছেন। হ্যাবারম্যান তাকে ট্রাম্পের ‘কমফোর্ট ব্ল্যাঙ্কেট’ বা মানসিক স্বস্তির সঙ্গী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

হার্পের ভাই প্রেস্টন হার্পের ভাষ্য, তার বোন ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে বড় ভক্ত’। ছোটবেলা থেকেই হোয়াইট হাউসে কাজ করার স্বপ্ন ছিল তার।

হোয়াইট হাউসও হার্পকে প্রেসিডেন্টের ‘বিশ্বস্ত ও মূল্যবান’ সদস্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ট্রাম্প নিজে প্রকাশ্যে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে নিয়ে খুব বেশি কথা বলেননি।

তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক

Post a Comment

0 Comments