জাবিতে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে র্যাগিং, ১২ শিক্ষার্থীর স্বাীকারোক্তি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের গভীর রাতে ডেকে নিয়ে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর অভিযান চালিয়ে ১২ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরাও প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে লিখিতভাবে র্যাগিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা সবাই ইতিহাস বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তারা হলেন— সুভাশীষ রায়, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, আবু আবতাহী অনিক, নাইমুল হাসান, আব্দুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী সিক্ত, মো. রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম নাবিল, সাইফুল্লাহ মানসুর আনান, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, শ্রী কার্তিক চন্দ্র রায় এবং নাইম আহমেদ সজিব।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১১টার দিকে ইতিহাস বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে প্রথমে মহুয়া মঞ্চের সামনে এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে যেতে বলা হয়। সেখানে প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষা করানোর পর তাদের মাঠসংলগ্ন নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ‘ফরমাল পরিচয়’ ও ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে তাদের বাবা-মাকে নিয়ে অশালীন ভাষায় গালাগাল, কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা এবং বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. এহসানুল হক বলেন, সেখানে তাদের বাবা-মাকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। পাশাপাশি কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা এবং ফরমাল পরিচয়ের নামে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে জাকসুর কয়েকজন নেতা ও প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
একই ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী রাজ খান দাবি করেন, এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং অ্যান্টি-র্যাগিং সেলের সদস্য হুসনে মোবারক জানান, রাত ২টার দিকে খবর পেয়ে তিনি ও জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী ঘটনাস্থলে যান। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর প্রশাসনকে জানানো হলে সহকারী প্রক্টর ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার কথা স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে পুরো ক্যাম্পাস যখন সোচ্চার, তখন গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের নির্জন স্থানে নিয়ে হেনস্তার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জাকসু কঠোর অবস্থানে থাকবে।
প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে দেওয়া লিখিত স্বীকারোক্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে ইতিহাস বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৩ শিক্ষার্থীকে স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নিয়ে তারা র্যাগিং করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, রাত ২টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা অফিসে এনে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডির সভায় উপস্থাপন করা হবে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক
0 Comments