রাজধানীর বাজারে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম, নিত্যপণ্যের খরচও চড়া
রাজধানীর বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। অন্যদিকে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও চাল ও মাছের দাম এখনও উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ টাকা কেজি দরে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।
নিউমার্কেটের মুরগি বিক্রেতা মো. সোহেল বলেন, সরবরাহের ওপরই ব্রয়লার মুরগির দাম নির্ভর করে। বর্তমানে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।
এক মাসে বেড়েছে চালের দামও
মুরগির পাশাপাশি চালের বাজারেও স্বস্তি নেই। গত এক মাসে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বর্তমানে মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকা, নাজিরশাইল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা এবং বিআর-২৮ বা মাঝারি মানের চাল ৫৮ থেকে ৬২ টাকা কেজি দরে।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে সরু চালের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ২৯ শতাংশ, মাঝারি চালের ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মোটা চালের ২ দশমিক ৭০ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি বেড়েছে নাজিরশাইল চালের দাম। এক মাসে কেজিপ্রতি ১০ টাকা এবং গত এক সপ্তাহে ৫ টাকা বেড়েছে। পোলাওয়ের চাল পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ১৭২ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১৮০ টাকা কেজি দরে।
কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী মিরাজ জানান, এলসি বন্ধ থাকা এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় চালের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি সরকার ধান ও চাল সংগ্রহ করায় বাজারে সরবরাহের ওপরও প্রভাব পড়েছে।
মাছের বাজারেও বাড়তি দাম
মাছের বাজারেও দাম ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে ২০০ টাকার নিচে মানসম্মত মাছ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
বর্তমানে রুই মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতল ২৩০ থেকে ৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে জাত ও আকারভেদে ৫৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে।
মাছ বিক্রেতাদের মতে, চিংড়ির সরবরাহ কম থাকায় এর দাম বেড়েছে। তবে বর্ষা মৌসুমে নদীর মাছের সরবরাহ বাড়লে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
সবজির বাজারে স্বস্তি
মাছ-মাংস ও চালের বাজারে অস্থিরতা থাকলেও সবজির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। মৌসুমি সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় অধিকাংশ সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রয়েছে।
বর্তমানে বেগুন ও কাকরোল ৬০ টাকা, পটোল ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, কুমড়া ৫০ টাকা এবং আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে টমেটোর দাম এখনও বেশি, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।
ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি
ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা এবং ব্রাউন ডিম ১২০ টাকায়। গত সপ্তাহে যেখানে ডিমের দাম ছিল ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা।
অন্যদিকে গরুর মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা দরে।
তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক
0 Comments