সিএনএন এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ফটোশুট করা হয়েছিল। সেখানে ২০ বছর বয়সী তরুণ লিওনেল মেসিকে দেখা গিয়েছিল কয়েক মাস বয়সী এক শিশুর সাথে।
সেই ছবিতে তরুণ মেসি অত্যন্ত সাবধানে ও কিছুটা লাজুক হাসিতে প্লাস্টিকের টবে এক শিশুকে গোসল করাচ্ছিলেন। সেই ছবিতে মেসির কোলে থাকা সেই ছোট্ট শিশুই আজ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম বড় তারকা লামিনে ইয়ামাল, যিনি বর্তমানে স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াচ্ছেন।
ছবিটি যখন তোলা হয়েছিল, তখন কেউই কল্পনা করতে পারেননি যে মেসির কোলে থাকা এই নবজাতক একদিন ফুটবল বিশ্বে ইতিহাস গড়বেন। ইউনিসেফ এবং স্প্যানিশ সংবাদপত্র দিয়ারিও স্পোর্ট এর যৌথ উদ্যোগে বার্সেলোনার রাভাল অঞ্চলের স্থানীয় শিশুদের নিয়ে এই ফটোশুটটি আয়োজন করা হয়েছিল। লটারির মাধ্যমে লামিনে ইয়ামালের পরিবার এই সুযোগটি পেয়েছিল। লামিনের মা শিলা এবানা মেসির পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং মেসি যখন শিশু লামিনেকে তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে ধরেছিলেন, তখনো কেউ জানত না যে ফুটবলের দুই ভিন্ন প্রজন্মের এই অনন্য মিলন একদিন ফুটবল রূপকথার অংশ হয়ে উঠবে।
ফটোশুটের দীর্ঘ ১৭ বছর পর, ২০২৪ সালের ইউরো কাপের সময় লামিনে ইয়ামালের বাবা ফেসবুকে এই ঐতিহাসিক ছবিগুলো শেয়ার করলে তা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ফুটবলপ্রেমীরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করেন যে, ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির হাত ধরেই যেন ফুটবলের পরবর্তী মহাতারকার আগমনী বার্তা লেখা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইয়ামাল নিজেও এই ছবি নিয়ে কথা বলেছেন এবং মজার ছলে জানিয়েছেন, মেসি হয়তো তার ভেতরে নিজের ফুটবলীয় শক্তির কিছুটা অংশ অজান্তেই দিয়ে দিয়েছিলেন।
বর্তমান সময়ের দিকে তাকালে দেখা যায়, সেই ছোট্ট শিশুটি আজ আর কোনো সাধারণ ফুটবলার নন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সের পর তিনি তার দলকে ফাইনালে নিয়ে গেছেন। কাকতালীয়ভাবে, একই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাও জায়গা করে নিয়েছে। ২০০৭ সালের সেই ঐতিহাসিক ছবির শিশু লামিনে ইয়ামাল এবং ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির সামনে সুযোগ তৈরি হয়েছে বিশ্বকাপে একসাথে ফাইনাল খেলার তবে এক্ষেত্রে আর্জেন্টিনাকে পার হতে হবে সেমিফিনালের বাধা।
সুত্রঃ স্টার নিউজ
0 Comments