বাংলাদেশে নারী আসামির ফাঁসি কার্যকর না হওয়ার কারণ কী?
উপমহাদেশে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল থাকলেও ফাঁসি কার্যকরের হার তুলনামূলকভাবে কম। ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশে হার অনেকটাই কম। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া ও উচ্চ আদালতে আপিলের কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে সময় লাগে বহু বছর। এদিকে উপমহাদেশে এ পর্যন্ত নারী অপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হয়নি।
প্রাচীনকাল থেকে ভয়াবহ নানা অপরাধের বিচারে সর্বোচ্চ শাস্তি রাখা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে এটি বাদ দেয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্যে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানে সর্বোচ্চ শাস্তি রাখা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড। তবে বিচারে দণ্ড দেয়া হলেও সেটি কার্যকরের নজির অনেক কম। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে গেল আড়াই দশকে মাত্র আট জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। গেল ৫০ বছরে নজির নেই শ্রীলঙ্কায়। পাকিস্তানে অবশ্য ২৫ বছরে ফাঁসি কার্যকরের সংখ্যা ৫০০-এর বেশি। আর স্বাধীনতার পর থেকে গেল ৫৪ বছরে বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ৪৪৫ জনের। যার সবশেষ উদাহরণ ২০২৩ সালে।
তবে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো নারী অপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর হয়নি। আইনজীবীরা বলছেন, নিম্ন আদালত থেকে ফাঁসির দণ্ড হলেও উচ্চ আদালতে তা কমে যাচ্ছে। তারা বলছেন, আইনের কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণে মৃত্যুদণ্ড কমানোর সুযোগ রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, ‘পাঁচটা গ্রাউন্ড যদি থাকে এটাকে বলে হলো মিটিগেটিং সারকামস্ট্যান্স আর এগ্রিভেটিং সারকামস্ট্যান্স। তার একটা বাচ্চা এবং এই বাচ্চাটার বয়স হলো এক বছর। তো সে তো তিন বছর চার বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ খায়। ২০১৮-১৯ এর মামলা এখন হচ্ছে।’
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত জাহান বলেন, ‘কোনো মহিলা প্রেগনেন্ট না থাকে বা তার বাচ্চা ফিডিং কোনো বেবি না থাকে, তাহলে সেই ক্ষেত্রে তাকে ফাঁসি দিতে আসলে আইনে কোনো রকম বাধা নেই।’বর্তমানে দেশের কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন ৯২ জন নারী। এদের মধ্যে ৮৬ জনের বিচার কাজ ঝুলে আছে হাইকোর্টে। বাকি ছয় জনের আপিল বিভাগে।
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, ‘এ স্টেপগুলো যেহেতু আমাদের একটা লম্বা কিউ আছে এবং অনেক ক্ষেত্রে আরেকটা বিষয় আসে যে, অনেক সময় দেখা যায় আসামী আপিল না করলেও কোড মোতাবেক তাকে অটোমেটিক আপিলে করে শুনানিী করে কনফার্ম করে তারপর নেক্সট স্টেপে যেতে হবে।’
স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো নারী আসামীর রায় কার্যকর হয়েছে এমন নজির নেই। নিম্ন আদালত থেকে ফাঁসির দণ্ড হলেও উচ্চ আদালতে এসে হয়তো স্থগিত হচ্ছে কিংবা সাজার পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর চাওয়া, অপরাধীকে পুরুষ কিংবা নারী হিসেবে নয়, অপরাধী হিসেবেই গণ্য করা হোক।
সুত্রঃ স্টার নিউজ
0 Comments