৬ কার্যদিবসের মধ্যে রামিসা হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন, ইতিহাসে প্রথম: আইনমন্ত্রী
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার মাত্র ছয় কার্যদিবসে সম্পন্ন হওয়াকে দেশের বিচার বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, রামিসা হত্যার মতো একটি হৃদয়বিদারক ঘটনার বিচার কার্যত ছয় কার্যদিবসের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
আইনমন্ত্রী জানান, উপমহাদেশের ইতিহাসে ১৮৮২ সালে নদীয়ার একটি হত্যা মামলার বিচার একদিনে সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর এত দ্রুত কোনো বিচার সম্পন্ন হওয়ার নজির খুবই বিরল। তিনি বলেন, আইনের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেই রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে।
এর আগে বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। একইসঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আইনমন্ত্রী ঘোষিত রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে বলে সরকারের প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ওই বাসার বাসিন্দা সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ঈদুল আজহার ছুটির কারণে সাময়িক বিরতির পর ১ জুন মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
পরবর্তীতে সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণা করেন। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটিও বাতিল করা হয়েছিল।
0 Comments