Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বিশ্বকাপের খেলা দেখা নিয়ে দুশ্চিন্তা, বঞ্চিত হতে পারেন বাংলাদেশের দর্শক

 

বিশ্বকাপের খেলা দেখা নিয়ে দুশ্চিন্তা, বঞ্চিত হতে পারেন বাংলাদেশের দর্শক


বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের পাগলামির কথা কে না জানে। শুধু দেশে নয়, সারাবিশ্বের মানুষ এখন জানে বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাটা ঠিক কতখানি। পাশাপাশি ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বাংলাদেশজুড়ে অন্যরকম উন্মাদনা। প্রিয় দলের পতাকা, জার্সি, ছাদজুড়ে সমর্থনের প্রদর্শন আর রাত জেগে খেলা দেখা-সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ যেন এ দেশের মানুষের আবেগের অংশ।

তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে এবার বড় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা।

চার বছর পর আবারও শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ। আগামী ১১ জুন তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে পর্দা উঠতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। তবে এবারের আমেজটা একটু ভিন্ন। কেননা এবারই প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে বিশ্বকাপ হবে। 

তবে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা বিশ্বকাপের খেলা দেখতে পারবে কি না, সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। 

জানা যায়, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব এখনও কিনতে পারেনি। বেসরকারি কোনো টেলিভিশন চ্যানেল কিংবা ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যম ওটিটি (ওভার দ্য টপ) প্রতিষ্ঠানগুলোও সম্প্রচার স্বত্ব এখনও কিনতে পারেনি। 

ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার অন্য দেশে সরাসরি দেখানো যায় না। ফলে স্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠান স্বত্ব না কিনলে বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিশ্বকাপ দেখা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কাছ থেকেই স্বত্ব কিনতে হবে।

প্রতি বিশ্বকাপ আসরেই দর্শকদের জন্য খেলা সম্প্রচার করে থাকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। তবে এবার সম্প্রচার স্বত্বের উচ্চমূল্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। 

বিটিভির একটি সূত্র জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক পিটিই বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ প্রায় ১৫১ কোটি টাকা চেয়েছে। কর ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হলে মোট ব্যয় প্রায় ২০০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। 

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মোট অর্থের অর্ধেক ১০ মে’র মধ্যে এবং বাকি অংশ ১০ জুনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এই স্বত্বের আওতায় উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানসহ মোট ১০৪টি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার এবং হাইলাইটস দেখানোর সুযোগ থাকবে। 

এদিকে এত বড় অঙ্কের ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরাসরি ফিফার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয় বিটিভিকে। যাতে বিনামূল্যে সম্প্রচারের কোনো সুযোগ পাওয়া যায় কি না তা যাচাই করা যায়। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বিটিভি ফিফাকে দুটি ই-মেইল পাঠালেও এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর মেলেনি। এতে করে বিটিভিতে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। 

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে কোটি কোটি বাংলাদেশি দর্শক এবারের বিশ্বকাপ দেখা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।


তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক

Post a Comment

0 Comments