Header Ads Widget

Responsive Advertisement

নিজের জ্যোতিষীকে বিশেষ কর্মকর্তা নিয়োগ: সমালোচনার মুখে নিয়োগ বাতিল করলেন বিজয়

 

নিজের জ্যোতিষীকে বিশেষ কর্মকর্তা নিয়োগ: সমালোচনার মুখে নিয়োগ বাতিল করলেন বিজয়


মিত্র ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে নিজের জ্যোতিষীর নিয়োগ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিজের ব্যক্তিগত জ্যোতিষী রিকি রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে 'অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি' (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন তিনি। 

ভেট্রিভেলকে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে ওএসডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার এক দিনের মাথায় এই নিয়োগ বাতিল করা হলো। 

জ্যোতিষীকে সরকারি পদে বসানোর এই পদক্ষেপ তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহলে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেয়। বিজয়ের তামিলাগা ভেট্রি কালাগামকে (টিভিকে) সমর্থন দেওয়া ভিসিকে, সিপিআই(এম) এবং সিপিআইয়ের মতো মিত্র দলগুলো প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে।

বিধানসভায় আস্থা ভোটের আগে ভিসিকে বিধায়ক বাণী আরসু সরকারকে বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিবাদী চিন্তাধারায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। কুসংস্কার হিসেবে পরিচিত কোনো বিষয়কে প্রশ্রয় না দেওয়ারও দাবি জানান তিনি। 

আরসু বলেন, 'আমাদের সরকারের উচিত জ্যোতিষশাস্ত্রকে নয়, বিজ্ঞানমনস্কতাকে গুরুত্ব দেওয়া।'

বাম দল সিপিআই(এম) এবং সিপিআইও একই সুরে কথা বলেছে। সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক পি শানমুগাম বলেন, যুক্তিবাদী চিন্তাধারার প্রসার ঘটানো সরকারের দায়িত্ব। জনগণের টাকায় একজন জ্যোতিষীকে সরকারি পদে নিয়োগ দেওয়া হলে তা কেবল কুসংস্কারকেই উৎসাহিত করবে। সিপিআইয়ের রাজ্য সম্পাদক এম ভিরাপান্ডিয়ানও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এই ঘটনার পর তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জে জয়ললিতার জ্যোতিষীদের ওপর নির্ভর করার বিষয়টিও মানুষের আলোচনায় নতুন করে ফিরে এসেছে।

ডিএমডিকে নেত্রী প্রেমলতা বিজয়কান্ত এই নিয়োগের কড়া সমালোচনা করে বলেন, বিজয় এর মাধ্যমে বিশাল জনগোষ্ঠীর, বিশেষ করে তাকে ভোট দেওয়া বিপুলসংখ্যক তরুণের সামনে একটি ভুল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, 'জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিতকে ওএসডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমি তামিলনাড়ুর সব মানুষের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি যদি আপনার গুরু হন, তবে তাকে আপনার ব্যক্তিগত পরিসরেই রাখুন। তরুণেরা আপনাকে ভোট দিয়েছে। আপনি তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে কী দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন, তা আপনাকে ব্যাখ্যা করতে হবে। আপনি কী বার্তা দিতে চাইছেন?'

ভিসিকে এবং বাম দলগুলো টিভিকে সরকারের ওপর থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার না করলেও তাদের এই অসন্তোষ রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আর মিত্রদের এই ক্ষোভের কারণেই শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া বিজয়।

তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক

Post a Comment

0 Comments