রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, রোববার (২৩ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত মাছুয়াপাড়া এলাকার ওই দুই যুবককে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বাড়ি ওই এলাকাতেই। হত্যাকাণ্ডের পর তারা ভবনটিতে বসে ইয়াবা সেবন করেছিল বলেও আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছে সূত্র।
হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করা হয়। সূত্রের দাবি, আটকদের একজন অভিযান টের পেয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে পালিয়ে লুকিয়ে পড়েন। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
দোতলা বাড়িটির ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ, সিঁড়ি থেকে তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ এবং শোবার ঘরের খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটতে পারে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল এবং টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ফলে ডাকাতির উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। মহানগর পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাটির তদন্ত করছে।
তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে সন্দেহভাজনদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক সংস্থা কাজ করছে এবং খুব দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।
তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক
0 Comments