আগস্ট মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি মৌসুমী লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি।
রোববার (২ আগস্ট) ঢাকার ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত কমিটির নিয়মিত সভায় ২০২৬ সালের জুলাই মাসের আবহাওয়ার তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা শেষে আগস্ট মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির চেয়ারম্যান ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগস্টে ঢাকায় ২৮০ থেকে ৩২০ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ৩৪০ থেকে ৩৮০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৪৮০ থেকে ৫২০ মিলিমিটার, সিলেটে ৪৫০ থেকে ৪৯০ মিলিমিটার, রাজশাহীতে ২৪০ থেকে ২৬০ মিলিমিটার, রংপুরে ৩৫০ থেকে ৩৯০ মিলিমিটার, খুলনায় ২৬০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার এবং বরিশালে ৩৮০ থেকে ৪২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এ মাসে সারাদেশে ৫ থেকে ৬ দিন বজ্রঝড় হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে। পাশাপাশি দেশের কোথাও কোথাও ১ থেকে ২টি মৃদু (৩৬–৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থেকে মাঝারি (৩৮–৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
নদ-নদীর বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগস্টে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। মৌসুমী ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
কৃষি আবহাওয়া বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ মাসে দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ২.৫ থেকে ৪.৫ মিলিমিটার এবং গড় উজ্জ্বল সূর্যকিরণকাল ২.৫ থেকে ৪.৫ ঘণ্টা থাকতে পারে, যা আমন ধানসহ চলমান কৃষি কার্যক্রমের জন্য সহায়ক হবে।
বিশেষজ্ঞ কমিটি জানায়, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা অনুমোদিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া ও জলবায়ু মডেল, উপগ্রহ তথ্য, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়া বিশ্লেষণ এবং এল নিনো/লা নিনার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে এ পূর্বাভাস প্রস্তুত করা হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, জুলাই মাসে সারাদেশে গড়ে ৬৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা স্বাভাবিক ৪৯১ মিলিমিটারের তুলনায় প্রায় ৩৫.৬ শতাংশ বেশি। ময়মনসিংহ বিভাগে প্রায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হলেও দেশের অন্যান্য বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রামে স্বাভাবিকের তুলনায় ৫১ শতাংশ, খুলনায় ৫৩ শতাংশ, সিলেটে ৩৭.৩ শতাংশ, ঢাকায় ৩৩.৪ শতাংশ, রাজশাহীতে ১৩.৬ শতাংশ এবং বরিশালে ১২.৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জুলাই মাসে বঙ্গোপসাগরে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে দুটি নিম্নচাপে এবং একটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে দেশ ও আশপাশের অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ ঘটায়। ৮ জুলাই চট্টগ্রামের আমবাগানে সর্বোচ্চ ৩২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
এ ছাড়া ৩ ও ৪ জুলাই দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। জুলাই মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ৪ জুলাই রংপুরে রেকর্ড করা হয়। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২১ ও ২২ জুলাই সিলেটে রেকর্ড হয়। তবে মাসজুড়ে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক ছিল।
তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক
0 Comments