Header Ads Widget

Responsive Advertisement

মেসির বিশাল ভাস্কর্য ঘিরে আর্জেন্টিনার বিজয় উদযাপন



বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর রাজধানী বুয়েনস আইরেস থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে যেন নতুন রূপ নিয়েছে পুরো আর্জেন্টিনা।

সবচেয়ে ব্যতিক্রমী উদযাপনের দৃশ্য দেখা গেছে পাতাগোনিয়া অঞ্চলের নিউকুয়েন প্রদেশের কুত্রাল কো শহরে। সেখানে সদ্য নির্মিত লিওনেল মেসির ৮৫ ফুট (২৬ মিটার) উঁচু বিশাল ভাস্কর্যের সামনে বড় পর্দায় সেমিফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করতে জড়ো হয়েছিলেন হাজারো ফুটবলপ্রেমী। একসময় ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়লেও শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়েন সমর্থকেরা।

আগামী সোমবার (২০ জুলাই) দিবাগত রাতে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি জিততে পারলে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা।

কুত্রাল কো শহরের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী লুকাস রোমেরো বলেন, “এটি ছিল ভীষণ কঠিন একটি জয়। কিন্তু মেসি আমাদের জন্য যা করেছেন, তার জন্য এই মূর্তি এবং এই আনন্দ—দুটিই আমাদের প্রাপ্য।”

স্থানীয় ভাস্কর আলদো বেরোইসার নির্মিত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু লিওনেল মেসি ভাস্কর্যটি চলতি বছরের জুন মাসে উদ্বোধন করা হয়। ম্যাচ শেষে ভাস্কর্যটির চারপাশে লাল ও কমলা রঙের আতশবাজিতে আলোকিত হয়ে ওঠে রাতের আকাশ।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই বরাবরই ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক আবেগেরও প্রতীক। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের বিতর্ক, ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড (মালভিনাস) যুদ্ধ এবং ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল—সব মিলিয়ে দুই দেশের দ্বৈরথ সবসময়ই বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করে।

ম্যাচের আগে সেই আবেগের প্রতিফলন দেখা যায় আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিলারুয়েলের বক্তব্যেও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, “ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই ভিন্ন কিছু। এটি মালভিনাসের লড়াই, এটি ডিয়েগোর লড়াই এবং এটি মেসির শেষ বিশ্বকাপ।”

তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক

Post a Comment

0 Comments