মেয়াদ ১৫ বছর হলেই বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ১৫ বছর পর বাধ্যতামূলকভাবে নবায়নের বিষয়ে ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রে বৈবাহিক তথ্য গোপন রাখার সুযোগও বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কাবিননামা ও তালাকনামা অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের (ভেরিফিকেশন) ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
২০০৭-০৮ সালে প্রথম জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের পর প্রায় দেড় যুগ পার হয়েছে। এ সময়ে নাগরিকদের চেহারা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যক্তিগত তথ্য এবং কিছু ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক তথ্যেও পরিবর্তন এসেছে। এসব কারণে পরিচয় যাচাইয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় নির্দিষ্ট সময় পরপর এনআইডির তথ্য হালনাগাদের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।
জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন অনুযায়ী, একটি এনআইডির মেয়াদ ইস্যুর তারিখ থেকে ১৫ বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা পরে নির্ধারিত নিয়ম ও ফি পরিশোধ করে নবায়নের আবেদন করার বিধান থাকলেও এবার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা যায় কি না, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আইনে এনআইডি নবায়নের বিধান রয়েছে। নাগরিককে বায়োমেট্রিক তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে যে পরিচয়পত্রটি তার কাছেই রয়েছে। প্রয়োজনে এটি বাধ্যতামূলক করার বিষয়েও কমিশন আলোচনা করছে।
তিনি বলেন, নবায়ন প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের যেন কোনো ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এনআইডির তথ্য সংশোধন প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও ডেটা এন্ট্রির সময় কিছু ভুল হয়েছিল। ফলে অনেকেই এখন সংশোধনের আবেদন করছেন। তবে নামের মতো মৌলিক তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, জাতীয় পরিচয়পত্রে বৈবাহিক তথ্য গোপন রাখার সুযোগও বন্ধ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এজন্য কাবিননামা ও তালাকনামা অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বৈবাহিক অবস্থা সংক্রান্ত তথ্য আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কমিশন।
নবায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো ফি নির্ধারণ করা হবে কি না, সে বিষয়েও নির্বাচন কমিশনে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক
0 Comments