Header Ads Widget

Responsive Advertisement

১০ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, ব্যয় বেড়েছে তিন গুণ

 ১০ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, ব্যয় বেড়েছে তিন গুণ


শরীয়তপুরের নড়িয়া-জাজিরা-ঢাকা সড়কের কীর্তিনাশা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ‘ভাষাসৈনিক গোলাম মাওলা সেতু’র কাজ এক দশকেও শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। একাধিকবার ঠিকাদার পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের ব্যয়ও প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেড়ে গেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, শুরুতে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও বর্তমানে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ কোটি ২ লাখ টাকায়। দীর্ঘসূত্রতা ও ঠিকাদারদের কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়ার কারণে একাধিকবার নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিতে হয়েছে।

নড়িয়া উপজেলা সদরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কীর্তিনাশা নদীর পূর্ব তীরে উপজেলা সদর এবং পশ্চিম তীরে মোক্তারের চর, রাজনগর, নশাসন ও জপসা ইউনিয়ন অবস্থিত। এছাড়া জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সড়ক।

১৯৯৭ সালে এখানে ১০৫ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ করা হলেও ২০১৫ সালে সেটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। পরে ২০১৭ সালে ১৪৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ১৪ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয় এবং কাজের দায়িত্ব পায় নাভানা কনস্ট্রাকশন। তবে কিছুদিন কাজ করার পর প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালে প্রকল্প ছেড়ে চলে যায়। এ সময় তাদের ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২১ সালে নতুন দরপত্রের মাধ্যমে কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ ২৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় সেতু ও ভায়াডাক্ট নির্মাণের কাজ পায়। এ প্রকল্পে ১০৫ মিটার সেতুর সঙ্গে ২২২ মিটার ভায়াডাক্ট যুক্ত করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করে প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করে বন্ধ করে দেয়। ইতোমধ্যে তাদের ৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং আরও ৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বর্তমানে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে তৃতীয় দফায় নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ নতুন ঠিকাদারকে এক বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে এলজিইডি।

সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় ২০২৩ সালে পুরোনো সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর গত তিন বছর ধরে যাত্রীদের ট্রলার ও নৌকায় করে নদী পারাপার করতে হচ্ছে। বর্তমানে তিনটি ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী ও মোটরসাইকেল পারাপার করা হলেও প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নড়িয়া উপজেলা সদরের কলেজ, দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এই পথে চলাচল করেন। ট্রলারে পারাপারের সময় একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, যারা নৌপথ এড়িয়ে চলতে চান, তাদের প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে পদ্মা সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এলজিইডি শরীয়তপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রাফেউল ইসলাম বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ঠিকাদাররা বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেননি। ফলে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিতে হয়েছে। পূর্ববর্তী ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আর্থিক জরিমানার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক

Post a Comment

0 Comments