Header Ads Widget

Responsive Advertisement

জুলাই হত্যাযজ্ঞে ৬৬ শতাংশেরই মৃত্যু সামরিক অস্ত্রে

 


জুলাইয়ের গণআন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছে ৭.৬২ ক্যালিবারের বুলেট, যা মূলত সামরিক রাইফেলে ব্যবহৃত হয়—এমন তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে। এ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে এই ধরনের অস্ত্র পুলিশের হাতে এলো এবং তা আন্দোলন দমনে ব্যবহার করা হলো।

সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ৭.৬২ ক্যালিবারের গুলি অত্যন্ত প্রাণঘাতী। তার দাবি, এই গুলিতে আহত একজনের পুরো হাত ভেঙে যেতে দেখেছেন তিনি। পুলিশের কাছে এই অস্ত্র কীভাবে এসেছে, তা তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় বেসামরিক পোশাকধারীদের হাতেও এ ধরনের রাইফেল দেখা গেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের অনুসন্ধান অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৩০টি মরদেহের মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে সামরিক অস্ত্রের গুলিতে। এছাড়া ১২ শতাংশ শর্টগানের গুলি, ২ শতাংশ পিস্তলের গুলি এবং বাকি ২০ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে মারধরসহ অন্যান্য কারণে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চায়না রাইফেল, এসএমজি, এলএমজি, বিডি-৮ অ্যাসল্ট রাইফেল এবং টরাস ৯ মিলিমিটার পিস্তলসহ বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্র সংগ্রহ করা হয়। ২০১৫ সালে ইতালি থেকে এসব অস্ত্রের প্রথম চালান আসে।

সামরিক বিশেষজ্ঞ কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক বলেন, ৭.৬২ ক্যালিবারের মতো সামরিক অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য। তার মতে, এ ধরনের অস্ত্র কোনোভাবেই সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ নেই এবং এটি সাংবিধানিকভাবেও গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে সামরিক বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় উৎপাদিত ৭.৬২ মিলিমিটার গোলাবারুদের একটি অংশ বাংলাদেশ পুলিশও ব্যবহার করে। ফলে পুলিশের কাছে এই ক্যালিবারের অস্ত্র থাকা অস্বাভাবিক নয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে মূল পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও বাস্তবায়নকারীরাই সবচেয়ে বেশি দায় বহন করেন। তার ভাষ্য, মাঠপর্যায়ের সদস্যদের অনেক ক্ষেত্রে আদেশ পালন ছাড়া বিকল্প থাকে না। তবে যাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা ও নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাদের অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়াই স্বাভাবিক।

এদিকে আন্দোলনের প্রায় তিন মাস আগেই আরও ৫০টি মারণাস্ত্র কেনার জন্য পুলিশ দরপত্র আহ্বান করেছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক

Post a Comment

0 Comments