আর মাত্র দুদিনের অপেক্ষা। এরপরই পর্দা নামবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর। আগামী সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচ দিয়েই শেষ হবে ৩৮ দিনব্যাপী বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ।
এবারের বিশ্বকাপ শুধু দলসংখ্যা বা ম্যাচের দিক থেকেই নয়, প্রাইজমানির দিক থেকেও ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই আসরের জন্য ফিফা মোট ৬৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৮ হাজার ৮৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা) প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে, যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ কত পাবে?
বিশ্বকাপ জিতলে স্পেন কিংবা আর্জেন্টিনা—যে দলই হোক, তারা পাবে ৫ কোটি (৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১৭ কোটি ৭ লাখ টাকা।
রানার্সআপ দল পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ (৩৩ মিলিয়ন) ডলার, যার পরিমাণ প্রায় ৪০৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ (২৯ মিলিয়ন) ডলার এবং চতুর্থ হওয়া দল পাবে ২ কোটি ৭০ লাখ (২৭ মিলিয়ন) ডলার।
এক নজরে প্রাইজমানি
চ্যাম্পিয়ন: ৫০ মিলিয়ন ডলার
রানার্সআপ: ৩৩ মিলিয়ন ডলার
তৃতীয় স্থান: ২৯ মিলিয়ন ডলার
চতুর্থ স্থান: ২৭ মিলিয়ন ডলার
কোয়ার্টার ফাইনাল: ১৯ মিলিয়ন ডলার
রাউন্ড অব ১৬: ১৫ মিলিয়ন ডলার
রাউন্ড অব ৩২: ১১ মিলিয়ন ডলার
গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়: ৯ মিলিয়ন ডলার
প্রস্তুতি ব্যয়: অতিরিক্ত ১.৫ মিলিয়ন ডলার
অর্থাৎ, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলই অন্তত ১০.৫ মিলিয়ন ডলার নিশ্চিতভাবে পাচ্ছে।
এই অর্থ কি খেলোয়াড়রা সরাসরি পান?
ফিফা সরাসরি খেলোয়াড়দের হাতে অর্থ দেয় না। প্রাইজমানি সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশন বা অ্যাসোসিয়েশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সেই সংস্থাই খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে অর্থ বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেয়। অবশিষ্ট অর্থ দেশের ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।
ফিফার আয় ছাড়াবে ১০ বিলিয়ন ডলার
ফিফার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপ থেকে সংস্থাটির আয় ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। ২০২৩-২০২৬ অর্থনৈতিক চক্রে ফিফার মোট সম্ভাব্য আয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের চার বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় কত বেড়েছে?
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪২ মিলিয়ন ডলার। এবার চ্যাম্পিয়ন দল পাচ্ছে ৫০ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ৮ মিলিয়ন ডলার বেশি।
এছাড়া রানার্সআপ দলের পুরস্কার বেড়েছে ৩ মিলিয়ন ডলার, আর তৃতীয় ও চতুর্থ হওয়া দল দুটি আগের তুলনায় ২ মিলিয়ন ডলার করে বেশি পাচ্ছে।
ট্রফির সঙ্গে আরও যা থাকবে
বিশ্বকাপজয়ী দলের ২৬ জন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ পাবেন স্বর্ণপদক। রানার্সআপরা পাবেন রৌপ্যপদক, আর তৃতীয় স্থান অধিকারীরা পাবেন ব্রোঞ্জপদক। ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারি ও কর্মকর্তাদেরও স্মারক পদক দেওয়া হবে।
ফাইনালের পর ঘোষণা করা হবে ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোও। এর মধ্যে রয়েছে গোল্ডেন বল (সেরা খেলোয়াড়), গোল্ডেন গ্লাভস (সেরা গোলরক্ষক) এবং গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা)। এসব পুরস্কারের সঙ্গে অর্থ প্রদান করা না হলেও এগুলো ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত সম্মাননাগুলোর অন্যতম।
বর্তমানে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে সমান ৮টি গোল করেছেন। তবে একটি অতিরিক্ত অ্যাসিস্ট থাকায় এগিয়ে রয়েছেন মেসি। ফাইনালের ফলেই নির্ধারণ হবে এবারের গোল্ডেন বুটের মালিক।
তাহাদ নিউজ ২৪ ডেস্ক
0 Comments